শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী ২০২১, ০৩:৩৩ অপরাহ্ন

সিলেট আ.লীগের দুই কমিটিতে সমালোচিতদের ঠাই

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৮৮ বার পঠিত

সম্মেলনের একবছর পর সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। এদিকে শুরুতে বাদ পড়ার গুঞ্জন থাকলেও অবশেষে দুটি ইউনিটেই জায়গা পেয়েছেন বিতর্ককিত বেশ কয়েকজন নেতা।

এদেরই একজন মুস্তাক আহমদ পলাশ। তার বিরুদ্ধে পরিবেশ ধ্বংসের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার লোভাছড়া পাথর কোয়ারি থেকে বোমা মেশিনের মাধ্যমে পাথর তুলেন এই নেতা। গত বছরের এপ্রিল পর্যন্ত চার বছর লোভাছড়া পাথর কোয়ারির ইজারাদার ছিলেন তিনি। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি পূর্ণাঙ্গ কমিটি থকে বাদ পড়ছেন বলেও সিলেটে গুঞ্জন ছিল। পরিবেশের বিপর্যয় ঘটিয়েও সমালোচিত এই নেতার স্থান হয়েছে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে। তাকে এই কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক করা হয়েছে। তিনি আগের কমিটির উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ছিলেন।

কেবল পলাশই নন, এরকম আরও কয়েকজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে উভয় শাখায় গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি সিলেটের হরিপুরে বন্যপাখির মাংসে ভূরিভোজ করে সমালোচিত হয়েছিলেন সিলেটের পাঁচ সিটি কাউন্সিলর। তাদের মধ্যে ইলিয়াছুর রহমান ইলিয়াসকে মহানগর কমিটির শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক এবং তৌফিক বক্স লিপন ও রকিবুল ইসলাম ঝলককে একই কমিটির সদস্য করা হয়েছে।

এছাড়া সম্প্রতি সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগ কর্মীদের দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার পর আবারও আলোচনায় আসে টিলাগড়কেন্দ্রীক অপরাজনীতির পৃষ্ঠপোষকদের বিষয়টি। সেসময় ওই এলাকার দাপুটে দুই নেতা আজাদুর রহমান আজাদ এবং অ্যাডভোকেট রণজিৎ সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্মীদের দিয়ে টিলাগড় এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের বিষয়টি আলোচনায় আসে।

এ ঘটনার পর সিলেটে নবগঠিত নাগরিক মোর্চা ‘দুষ্কাল প্রতিরোধে আমরা’ টিলাগড় এলাকায় লাল পতাকা উত্তোলন করে ‘গডফাদার’ মুক্তির দাবি জানায়।

সেসময় দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা ছাত্রাবাসের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে টিলাগড় এলাকার ছাত্রলীগ কর্মীদের প্রশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। কিন্তু সমালোচিত এই দুই নেতাকেও কমিটিতে মূল্যায়ন করা হয়েছে।

আগের কমিটির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও সিটি কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদকে নতুন সিলেট মহানগর কমিটিতে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। আর জেলা কমিটির সাবেক যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রণজিৎ সরকারকে জেলার নতুন কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে।

বিতর্কিত ও সমালোচিত নেতাদের কমিটিতে মূল্যায়নকে কীভাবে দেখছেন? এমন এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম বলেন, ‘প্রকৃতি ও পরিবেশ ধ্বংসসহ নানা কারণে বিতর্কিত, সমালোচিত এবং নিন্দিত ব্যক্তিদের কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া শুভবুদ্ধির পরিচয় নয়। আওয়ামী লীগের মতো দায়িত্বশীল দলের কাছ থেকে এটা অপ্রত্যাশিত।’

আর বিতর্কিত ও সমালোচিত এসব নেতাদের দলে ভালো অবস্থানে স্থান দেয়ার মাশুল দলকেই দিতে হবে উল্লেখ করে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা সবসময় আশা করি যে, দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলগুলো ক্লিন ইমেজের রাজনীতিবিদদের মধ্য থেকেই দলের দায়িত্বশীল পদ বণ্টন করবে, যাতে শুদ্ধ রাজনীতির চর্চার মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটিতে তা প্রতিফলিত হয়নি।’

সম্মেলনের একবছর পর শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার অনুমতিক্রমে সিলেটের দুটি ইউনিটে ৭৫ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

আরও

ফেসবুক পেজ

© sbarta24.com সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jphostbd-2281
x