শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী ২০২১, ০৩:১০ অপরাহ্ন

সিলেটে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিতে ছাত্রদল, ঝিমিয়ে পড়েছে ছাত্রলীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২ জানুয়ারী, ২০২১
  • ১২০ বার পঠিত

মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে চলছে সিলেটে ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম। অন্যদিকে জেলায় তিন বছর নগরে দুই বছর ধরে ছাত্রলীগের কমিটি নেই। এতে একদিকে যেমন নতুন নেতৃত্ব উঠে আসছে না অন্যদিকে নেতৃত্বে আসার মতো গুণাবলী থাকা সত্বেও বহু মেধাবী ছাত্রনেতার ভাগ্যে জুটছে না কাঙ্খিত পদ-পদবি। ফলে ক্রমেই রাজনীতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছেন মেধাবীরা।

এ প্রসঙ্গে ছাত্রদলের সাবেক নেতারা বলছেন দুটি কমিটিই মেয়াদোত্তীর্ণ। এই অবস্থায় ছাত্রদল মোটেও সুশৃঙ্খল অবস্থায় নেই। এই অবস্থা কাটাতে ছাত্রদলকে অবশ্যই রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় তরুণ নেতৃত্বনির্ভর হতে হবে। আর কেন্দ্রের উপর দোষ চাপিয়ে ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা বলছেন এই অবস্থাকে নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের সংকট বলে মনে হচ্ছ। কেন্দ্রের দ্বায়িত্বশীল নেতাদের বারবার কমিটি গঠনের কথা বললেও তারা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।

আড়াই বছরেও পূর্ণাঙ্গ হয়নি ছাত্রদলের কমিটি

২০১৮ সালের ১৩ জুন সুদীপ জ্যোতি এষকে সভাপতি ও ফজলে রাব্বী আহসানকে সাধারণ সম্পাদক করে ২৯ সদস্য বিশিষ্ট সিলেট মহানগর ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র। অপরদিকে জেলায় আলতাফ হোসেন সুমনকে সভাপতি ও দেলোয়ার হোসেন দিনারকে সাধারণ সম্পাদক করে ২৮ সদস্য বিশিষ্ট ঘোষণা করা হয়। এই কমিটির মেয়াদ দু’বছর থাকলেও পেরিয়ে গেছে আড়াই বছর। এ দুটি কমিটির ৫৭ নেতাই আড়াই বছর ধরে দখল করে আছেন পদ-পদবি। তাদের অনেকেরই ছাত্রত্ব নেই। কেউ কেউ অনেক আগেই ছাত্রদল ছেড়েছেন। কমিটির নেতারা বলছেন দায়িত্ব পাওয়ার পর দলের নতুন গঠনতন্ত্র তৈরি করতে কিছুটা সময় লেগেছে। যার কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে শিগিগির দুটি ইউনিটে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে।

ছাত্রদল সূত্রে জানা গেছে, কমিটিতে স্থান পেতে এরইমধ্যে দলের দায়িত্বশীলদের কাছে ১ হাজারেরও বেশি জীবন বৃত্তান্ত জমা পড়েছে। একইসঙ্গে সার্টিফিকেট চাওয়া হয়েছে। এগুলো যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। যাদের ছাত্রত্ব আছে তাদেরই কমিটিতে রাখা হবে।

সূত্র আরও জানায়, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জেলা ও মহানগরে ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট গঠনের কথা থাকলেও কমিটির পরিধি কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি সুদীপ জ্যোতি এষ বলেন, জীবন বৃত্তান্ত যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। শিগিগির প্রস্তাবিত কমিটি অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রে জমা দেয়া হবে। কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী যাদের ছাত্রত্ব আছে তাদেরকেই কমিটিতে রাখা হবে।

আর জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন নাদিম বলেন, নতুন গঠনতন্ত্র তৈরি করতে কিছুটা সময় লেগেছে। যার কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে দেরি হচ্ছে। তবে শিগিগির কমিটি ঘোষণা করা হবে।

পাঁচ বছর ধরে আশ্বাসে বন্দি ছাত্রলীগ

২০১৭ সালের অক্টোবরে সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয়তা ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে সিলেট জেলা কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে কেন্দ্র। একই অভিযোগে ২০১৮ সালের অক্টোবরে সিলেট মহানগর কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। এরপর কেটে গেছে পাঁচটি বছর। বারবার কেন্দ্র থেকে আশ্বাস আর কমিটির জন্য জীবনবৃত্তান্ত নিলেও পাঁচ বছরে কমিটির মুখ দেখেনি সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগ। জেলায় তিন বছর আর মহানগরে দুই বছর ধরে কমিটি নেই। দীর্ঘ সময়ে কমিটি না হওয়ায় অনেকেই ছাত্রলীগ ছেড়ে অন্য সংগঠনে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন। অনেকে রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছেন। এতে সিলেটে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কর্মকান্ড একেবারেই ঝিমিয়ে পড়েছে। বলা চলে সিলেটে অনেকটা নিষ্প্রাণ ছাত্রলীগ। ফলে দলের কর্মী সমর্থকেরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।

এদিকে কমিটি না থাকায় একদিকে যেমন নতুন নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে না, অন্যদিকে নামে-বেনামে সাবেক ছাত্রনেতাদের ছত্রছায়ায় একাধিক গ্রুপ-উপগ্রুপ সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং খুনোখুনির মতো ঘটনাও ঘটছে। কমিটি না থাকায় এসব ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা উল্লেখ করে দায় এড়িয়ে চলেছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

একই অবস্থা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, এমসি কলেজ, সরকারি কলেজ, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও পলিটেকনিক্যাল কলেজে। এদের একটিতেও ছাত্রলীগের কমিটি নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে কমিটিবিহীন অবস্থায় থাকায় বেশিরভাগ ক্যম্পাসে আওয়ামী লীগ নেতাদের অনুসারিরা আধিপত্য বিস্তার করে সংগঠনটির কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। সাবেক এই ছাত্রনেতাদের রয়েছে নিজস্ব বলয়, গ্রুপ-উপগ্রুপ। অভিযোগ রয়েছে ক্যাম্পাসে নিজেদের বলয় ভারি এবং শক্তি প্রদর্শন করতে ছাত্রদল-শিবির, অছাত্র ও মামলার আসামিদের দলে ভেড়াচ্ছেন। ফলে ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে চলছে আধিপত্য। মারামারি ও খুনোখুনির মতো ঘটনা ঘটছে।

এ ব্যপারে জানতে চাইলে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সংগঠনিক সম্পাদক এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন বলেন, ছাত্রলীগ আমাদের সহযোগী সংগঠন। সাংগঠনিকভাবে তারা স্বাবলম্বী তাদের নিজস্ব একটি স্বক্রিয়তা রয়েছে। সুতরাং আমি এব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি নই। ছাত্রলীগের দ্বায়িত্বশীল নেতারা এব্যাপরে সিদ্ধান্ত নেবেন। আমি আশা করি তারা একটি ভালো কমিটি উপহার দেবেন।

সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. নাসির উদ্দিন খান বলেন, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় দ্বায়িত্বশীল নেতাদের বারবার কমিটি গঠনের কথা বললেও তারা এব্যাপরে কর্ণপাত করেন নি। ছাত্রলীগের এই অবস্থাকে নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের সংকট বলে মনে করেন তিনি।

কমিটি গঠন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ চৌধুরী বলেন, বিগত কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটির শূণ্যপদগুলো পূরণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একইসঙ্গে বিভাগীয় দ্বায়িত্ব বন্টনের বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে। আশা করি দ্রুতই সিলেটর দুটি ইউনিটে কমিটি গঠনের কার্যক্রম শুরু হবে।

আরও

ফেসবুক পেজ

© sbarta24.com সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
jphostbd-2281
x